চীন ও অন্যান্য এশীয় দেশ থেকে আমদানীকৃত গাড়ির ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেছে মেক্সিকো। আমদানি শুল্কের ব্যাপক এ পুনর্বিন্যাসের পেছনে আঞ্চলিক শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। শুধু মেক্সিকো নয়, চীন ও ভারতের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের ওপরও চাপ প্রয়োগ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান।
মেক্সিকোর অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টেক্সটাইল, ইস্পাত ও গাড়িসহ বিভিন্ন খাতের পণ্যের ওপর আমদানি শুল্কহার বাড়ানো হবে। এতে প্রভাবিত হবে ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলারের আমদানি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে গত বুধবার মেক্সিকোর অর্থমন্ত্রী মার্সেলো ইব্রার্ড জানিয়েছেন, বর্তমানে চীনা গাড়ির ওপর ২০ শতাংশ কার্যকর রয়েছে। এখন তারা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমা পর্যন্ত শুল্ক বাড়াবেন। কারণ একটা নির্দিষ্ট মাত্রার সুরক্ষা ছাড়া কর্মসংস্থান বাজারে স্থিতিশীলতা ও দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা প্রায় অসম্ভব।
মার্সেলো ইব্রার্ড আরো জানান, মেক্সিকোর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নেই এমন দেশগুলো শুল্কের আওতায় পড়বে। এর মধ্যে রয়েছে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, থাইল্যান্ড ও তুরস্ক।
এ পরিকল্পনায় মেক্সিকোর মোট আমদানির ৮ দশমিক ৬ শতাংশের ওপর প্রভাব ফেলবে। এর আওতায় ইস্পাত, খেলনা ও মোটরসাইকেলের ওপর শুল্ক হবে ৩৫ শতাংশ। টেক্সটাইল পণ্যের ওপর শুল্ক চড়বে ১০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত।
পদক্ষেপটি এমন সময় নেয়া হয়েছে, যখন লাতিন আমেরিকার দেশগুলোকে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করতে বলছে যুক্তরাষ্ট্র।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএসআইএসের বিশ্লেষক মারিয়ানা কামপেরো বলেন, ‘চীনা রফতানির পেছনের দরজা হিসেবে মেক্সিকোকে ব্যবহার করতে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। এক দশকের মধ্যে চীনের সঙ্গে মেক্সিকোর বাণিজ্য ঘাটতি দ্বিগুণ হয়েছে, গত বছর যা ১২ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে।’
বাঙ্কো বেসের বিশ্লেষক গ্যাব্রিয়েলা সিলার বলেন, ‘মেক্সিকোর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নেই এমন দেশের ওপর শুল্ক বাড়ানোর উদ্দেশ্য দুটি। আয় বৃদ্ধি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করা।’
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে রয়েছে। এ চুক্তির কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক শুল্ক থেকে সুরক্ষা পাচ্ছে মেক্সিকো।
এদিকে রাশিয়াকে অর্থনৈতিক চাপ দিতে ভারত ও চীনের ওপর শুল্ক বৃদ্ধিকে ব্যবহার করতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি এশিয়ার দেশ দুটি থেকে আমদানি পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপে ইইউকে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার সময় এ দাবি তোলেন ট্রাম্প। সে আলোচনায় মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়, এর মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর চাপ বাড়বে।
বিষয়টি নিয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত এবং যেকোনো সময় তা করতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র শুধু তখনই এগোবে, যখন ইইউ বা তাদের ইউরোপীয় অংশীদাররাও সমানভাবে এগিয়ে আসবে।
কয়েক সপ্তাহ আগে আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন জানিয়েছিলেন, শিগগিরই পুতিনের সঙ্গে তার ফোনালাপ হবে। কিন্তু পুতিনের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছেন পুতিন। এছাড়া সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন।
আগস্টে ভারত থেকে আমদানীকৃত পণ্যের পর গড়ে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে ভারত।